পশ্চিমা বিশ্বে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় ঐতিহাসিক পতন: গ্যালাপ জরিপ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

ছবি : সংগৃহীত গাঁজা

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্যালাপের সর্বশেষ জরিপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আমেরিকানদের সমর্থন ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জরিপের মূল ফলাফলে দেখা যায়,
৫২% আমেরিকান নেতানিয়াহুর নেতৃত্বকে অনুৎসাহিত করেন। মাত্র ২৯% তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।১৯% উত্তরদাতাদের কোনো স্পষ্ট মতামত নেই।

সময়ের সাথে তুলনা করলে দেখা যায় ,
জুন ২০২৪: ৪৫% অসন্তুষ্টি, ৩৫% সমর্থন।
এপ্রিল ২০১৯: ৪০% সমর্থন, ২৭% অসন্তুষ্টি।

এই তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, গত এক বছরে নেতানিয়াহুর প্রতি আমেরিকানদের নেতিবাচক ধারণা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

গাজার যুদ্ধে ইসরায়েলের ক্রমাগত বিধ্বংসী অভিযান, বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক আদালতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তিকে ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৬০,০৩৯-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৪৬,৮৯৪ আহত হয়েছে। এছাড়া, গাজার ৭০% ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং ৫০ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ জমা হয়েছে।

নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে গাজাকে “মধ্যপ্রাচ্যের রিভিয়েরা” হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনারও সমালোচনা হচ্ছে, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেলেও বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র নিন্দা ডেকে এনেছে।

আইসিসি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এর পরও জার্মানির সম্ভাব্য চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস তাকে জার্মানিতে আমন্ত্রণ জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন, যা বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

গ্যালাপ জরিপে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন হ্রাসের পাশাপাশি ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা প্রদানের বিরোধিতাও বাড়ছে। সম্প্রতি মার্কিন সিনেটে বার্নি স্যান্ডার্সের নেতৃত্বে ইসরায়েলকে অস্ত্র বিক্রয় বন্ধের প্রস্তাব পেশ করা হয়, যা ২৭-৭০ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হলেও ডেমোক্র্যাট দলের মধ্যে ইসরায়েল-বিরোধী মনোভাব বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

গাজার ধ্বংসযজ্ঞ ও নেতানিয়াহুর যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে জনমত দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। গ্যালাপ জরিপে এরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে যদি ইসরায়েলের নীতি পরিবর্তন না হয়, তাহলে পশ্চিমা মিত্রদের সমর্থন আরও সংকুচিত হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ