গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ আড়াল করতে ইসরায়েলের চাপ: ত্রাণ বন্ধের হুমকি

নিজেস্ব প্রতিবেদক

ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম Haaretz-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গাজায় চলমান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক সংকটের ছবি বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রকাশ না করতে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মতো দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করছে ইসরায়েল। এমনকি, ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া বিমান বাহিনী ও মানবিক সংস্থাগুলোকে হুমকি দেওয়া হয়েছে—যদি গাজার ধ্বংসস্তূপের ছবি ফাঁস হয়, তাহলে ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে ।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগের ছবি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে দিতে নারাজ। Haaretz এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসরায়েলি সরকার জর্ডান ও ইউএই-এর মতো দেশগুলোর ত্রাণ মিশনগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা গাজায় ধ্বংসের মাত্রা ক্যামেরাবন্দি না করেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৬০,০৩৯ Palestinians নিহত এবং ১৪৬,৮৯৪ -এর বেশি আহত হয়েছে । জাতিসংঘের হিসাবে, গাজার ৭০% ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং ৫০ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ জমা হয়েছে ।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে “সত্য গোপন করার অপরাধ” বলে অভিহিত করেছে। তাদের বক্তব্য, “ইসরায়েল যদি নির্দোষ হয়, তাহলে কেন আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে?”

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের এই নীতি গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে অন্ধকারে রাখার চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় ড্রোন সাংবাদিকদের টার্গেট করেছে, যারা ধ্বংসের ছবি তুলতে চেষ্টা করছিলেন ।

গাজার মানবিক সংকট চরমে পৌঁছালেও ইসরায়েল ত্রাণ সরবরাহে বাধা দিচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ৯২% বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে, ৮৮% স্কুল মেরামতের অযোগ্য, এবং হাসপাতালে জ্বালানি সংকট তীব্র ।

ইসরায়েলের এই হুমকির ফলে গাজার লক্ষাধিক বাস্তুচ্যুত মানুষের ভাগ্যে আরও অনিশ্চয়তা নেমে আসতে পারে। ইতোমধ্যেই, গাজায় দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো ।

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ভয়াবহতা আড়াল করতে এই ধরনের কঠোর নীতি প্রমাণ করে যে, ইসরায়েল শুধু ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে না, বরং সত্য গোপন করতেও মরিয়া। বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত গাজার মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া এবং ইসরায়েলের এই তথ্য সেন্সরশিপের নিন্দা করা।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ