ইংল্যান্ড-ওয়েলসে টানা দ্বিতীয়বারের মতো জনপ্রিয় নাম ‘মুহাম্মদ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান অফিস (ওএনএস) এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ছেলেশিশুদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ‘মুহাম্মদ’। ২০২৪ সালে দেশ দুটিতে ৫ হাজার ৭১২ জন শিশুর নাম রাখা হয়েছে ‘মুহাম্মদ’, যা আগের বছরের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে ।

২০২৪ সালের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ‘মুহাম্মদ’-এর পর দ্বিতীয় সর্বাধিক জনপ্রিয় নাম ‘নোয়াহ’, যেটি ৪ হাজার ১৩৯ শিশুর নাম হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ‘অলিভার’, ‘আর্থার’ ও ‘লিও’ ।
মেয়েশিশুদের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে রয়েছে ‘অলিভিয়া’, যার পরেই রয়েছে ‘অ্যামেলিয়া’, ‘লিলি’, ‘ইসলা’ ও ‘ইভি’ ।

যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো ১৯২৪ সালে ‘Mohammad’ বানানে এই নামটি শীর্ষ ১০০ জনপ্রিয় নামের তালিকায় ৯১তম স্থান অধিকার করে। তবে পরবর্তীতে এর জনপ্রিয়তা কিছুটা কমে যায়। ১৯৬০-এর দশকে, বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মুসলিম অভিবাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে ‘মুহাম্মদ’ (Muhammad) নামটি পুনরায় জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। ১৯৮০ সাল নাগাদ এটি আবারও শীর্ষ ১০০ নামের তালিকায় স্থান করে নেয় ।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটেনে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে ‘মুহাম্মদ’ নামটির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এটি কেবল ধর্মীয় গুরুত্বের কারণেই নয়, বরং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে । লন্ডন, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস এবং ইয়র্কশায়ারের মতো মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে এই নামটি বিশেষভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে ।

ঐতিহ্যবাহী কিছু নাম যেমন ‘আর্থার’, ‘আর্চি’, ‘জর্জ’ ও ‘থিয়োডর’ এখনও শীর্ষ ১০-এ টিকে আছে। তবে ‘রজার’, ‘স্টিভ’, ‘কলিন’ ও ‘কেইথ’-এর মতো নামগুলো ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলেছে এবং বর্তমানে শীর্ষ ১০০ তালিকাতেও নেই ।

ওএনএস-এর তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের নামকরণে পপ কালচার, অভিবাসন ও ধর্মীয় প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। যেমন, ‘আয়মান’ ও ‘হাসান’-এর মতো আরবি নামগুলোর জনপ্রিয়তা গত বছর যথাক্রমে ৪৭% ও ৪৩% বৃদ্ধি পেয়েছে । আবার ‘সানডে’ বা ‘ওয়েনজডে’-র মতো নামগুলোও ট্রেন্ডে রয়েছে, যা নেটফ্লিক্স সিরিজের প্রভাব বলে মনে করা হয় ।

‘মুহাম্মদ’ নামটির শীর্ষে অবস্থান যুক্তরাজ্যের সমাজে ইসলামী সংস্কৃতির গ্রহণযোগ্যতা ও বৈচিত্র্যেরই ইঙ্গিতবাহী। এটি কেবল একটি নামের সাফল্যই নয়, বরং ব্রিটিশ সমাজের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়েরও প্রতীক । আগামী বছরগুলোতেও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ