১৫ দেশের যৌথ বিবৃতিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান

নিজেস্ব প্রতিবেদক

ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে বিশ্বের ১৫টি দেশ। ফ্রান্সের নেতৃত্বে এই যৌথ বিবৃতিতে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য দ্বি-রাষ্ট্র কাঠামোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে ।

অ্যান্ডোরা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, পর্তুগাল, সান মারিনো, স্লোভেনিয়া ও স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিকে “দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের অপরিহার্য পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেছেন। এগুলোর মধ্যে ৯টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়নি, তবে এখন ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে ।

বিবৃতিতে গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতি ও ৬০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহতের (অধিকাংশ নারী ও শিশু) বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সহায়তা কার্যক্রমে ১,১৭৯ জন নিহত ও ৭,৯৫০ জন আহত হয়েছেন ।

হামাসের জিম্মিদের মুক্তি, গাজার পুনর্গঠন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধীনে গাজা ও পশ্চিম তীরের একীভূত শাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে ।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই বিবৃতিকে “নিরাপত্তাহীনতাকে পুরস্কার” বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে এটি ইউরোপের জন্যও হুমকি সৃষ্টি করবে ।
এদিকে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি দেবেন বলে জানিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও একই শর্তে স্বীকৃতির ঘোষণা দিয়েছেন ।
২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয় ।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইলের হামলায় গাজার ৯০% অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং খাদ্য সংকট চরমে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, বর্তমানে ১৪২টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে বা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় আছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ এখনও বিরোধিতা করছে ।

এই যৌথ বিবৃতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইসরাইলের উপর চাপ বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। তবে, এর বাস্তব প্রভাব ফিলিস্তিনিদের দৈনন্দিন জীবনে কতটা পরিবর্তন আনবে, তা এখনও অনিশ্চিত ।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ