নেতানিয়াহু রাজনৈতিক স্বার্থে গাজার যুদ্ধ চালাচ্ছেন: ট্রাম্পের হতাশা ও জটিল সম্পর্কের খবর

নিজেস্ব প্রতিবেদক

ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গাজা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার জন্য রাজনৈতিক স্বার্থকে দায়ী করছেন বলে জানা গেছে। অভ্যন্তরীণ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস মনে করে নেতানিয়াহু একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতিকে বাধাগ্রস্ত করছেন, যদিও গাজায় বেশিরভাগ সামরিক লক্ষ্য ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদিও নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন, কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে তার হতাশা প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বলেছেন, “আমি ইসরাইলের ওপর ক্ষুব্ধ। তারা জানে না কী করছে” । এমনকি তিনি ইসরাইলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তা স্থগিত করার হুমকিও দিয়েছেন ।

তবে হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুকে চ্যালেঞ্জ করতে অনিচ্ছুক। তাদের মতে, দু’নেতার মধ্যে কোনো বড় ফাটল নেই, কিন্তু মতপার্থক্য রয়েছে ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে গাজা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইসরাইলের আগামী সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের অক্টোবরে হওয়ার কথা থাকলেও, নেতানিয়াহু আগেই নির্বাচন ঘোষণা করতে পারেন যদি তিনি বন্দিদের মুক্ত করে জনপ্রিয়তার ঢেউয়ে ভাসতে সক্ষম হন ।

এছাড়া, নেতানিয়াহুর জোট কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর সমর্থনে টিকে আছে, যারা গাজায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পক্ষে। ইউরোপীয় পররাষ্ট্র সম্পর্ক কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞ হিউ লাভাট বলেন, “নেতানিয়াহুর দূর্বল ডানপন্থী জোট কেবল গাজায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার চাপেই টিকে আছে” ।

ট্রাম্পের হতাশা মূলত হামাসের প্রতি, কিন্তু তিনি নিজ দলের অভ্যন্তরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে বাড়তে থাকা অসন্তোষ সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠেছেন। মার্কিন কংগ্রেসে কিছু রিপাবলিকান সদস্য ইসরাইলি হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন, বিশেষ করে গাজায় ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের পর ।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৫৭৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু । এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দিচ্ছে, যা স্থায়ী শান্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করতে পারে । হামাস ইতোমধ্যে কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে গ্রহণ করেছে ।

তবে ইসরাইল বলেছে, হামাস প্রস্তাবের কিছু পরিবর্তন চেয়েছে যা তাদের কাছে ‘অগ্রহণযোগ্য’ । আলোচনা চললেও, নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন, “গাজায় আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি। হামাসকে নির্মূল করতেই হবে” ।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এই মতপার্থক্য সাময়িকভাবে মীমাংসা হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়তে পারে । ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে নিজের পররাষ্ট্রনীতির ‘ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার’ গড়ে তুলতে চান, যা অনেকটাই গাজা যুদ্ধের সমাপ্তির ওপর নির্ভর করছে ।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহুকে একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে — তিনি ট্রাম্পকে বেছে নেবেন, নাকি তার কট্টরপন্থী মিত্রদের । এই জটিল সমীকরণের মধ্যেই গাজার ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তির সম্ভাবনা নির্ভর করছে।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ