
ছবি : সংগৃহীত
আজ ১২ আগস্ট, ফরিদপুরের পরিবেশবাদী আইকন ও “গাছের মানুষ” খ্যাত আব্দুস সামাদ শেখের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিনটি স্মরণে স্থানীয় সংগঠন ফরিদপুর সিটি অর্গানাইজেশন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে, যা প্রতি বছর তার অনন্য অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে আসছে। সামাদ শেখের জীবনাদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে স্থানীয়রা ।
ভাজনডাঙার বাসিন্দা সামাদ শেখ পেশায় ছিলেন রিকশাচালক, কিন্তু তার প্রকৃত পরিচয় ছিল একজন নিবেদিতপ্রাণ পরিবেশ সৈনিক। মাত্র ২২ বছর বয়স থেকে শুরু করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত—টানা ৪৮ বছর—তিনি প্রতিদিন গাছ লাগানোর অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। তার জীবদ্দশায় রোপিত গাছের সংখ্যা প্রায় ৫০,০০০, যা ফরিদপুরের বিভিন্ন রাস্তার পাশে, স্কুল-মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এবং জনসাধারণের ব্যবহার্য স্থানগুলোকে সবুজে ভরিয়ে তুলেছে। রিকশা চালিয়ে অর্জিত সামান্য আয় থেকেই তিনি প্রথমে একটি চারা কিনতেন, তারপর পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার কথা ভাবতেন। অনেক সময় সংসারের চাহিদা পূরণ না করলেও তিনি গাছ লাগানো থেকে কখনই পিছপা হননি—এমনকি অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে থাকাকালেও ।
২০১৭ সালের ১২ আগস্ট ৬০ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন, কিন্তু রেখে যান একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তার এই অবিস্মরণীয় প্রচেষ্টা স্থানীয়দের কাছে তাকে “সুপার হিরো”-এর মর্যাদা দিয়েছে। ফরিদপুর সিটি অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সামাদ চাচা শুধু গাছ লাগাননি, তিনি প্রকৃতি ও মানবতার জন্য একটি আদর্শ স্থাপন করে গেছেন। তার দেখানো পথে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে”।
তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গাছ লাগানোর এই মিশন ফরিদপুরে জলবায়ু সহনশীলতা ও পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়াও স্থানীয় স্কুল ও যুব সংগঠনগুলো তার জীবনী নিয়ে আলোচনা করে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফরিদপুর সিটি ও ফরিদপুর লাইভের যৌথ উদ্যোগে প্রতিবছর এই দিনে বৃক্ষরোপণ, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন আয়োজিত হয়।
আজকের দিনে ফরিদপুরবাসী সামাদ শেখের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে আরও বেশি করে গাছ লাগানোর অঙ্গীকার করছে। তার মতো সাধারণ মানুষই যখন অসাধারণ পরিবর্তন আনতে পারেন, এটি সমাজের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। ফরিদপুর সিটির পেজে এক প্রতিক্রিয়ায় একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “তিনি প্রমাণ করেছেন, অর্থ বা পদমর্যাদা নয়, নিষ্ঠাই মানুষকে মহান করে তোলে”।
সামাদ শেখের জীবনী শুধু ফরিদপুরেরই নয়, সমগ্র বাংলাদেশের জন্য একটি প্রেরণাদায়ী গল্প—যা প্রকৃতি প্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মিশেলে এক অনন্য আদর্শ তৈরি করেছে।














