
গাজার কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতে নৃশংস ইসরায়েলি বাহিনী
গাজা উপত্যকায় মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ১১ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ হত্যাকাণ্ডে সাংবাদিক সমাজসহ গোটা বিশ্ব আবারও স্তম্ভিত হলেও কোনো কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
গত ১১ আগস্ট গাজার আল-শিফা হাসপাতালের সামনে আনাস আল-শারিফসহ ৬ সাংবাদিককে নিশানা করে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। আর আজ ২৫ আগস্ট দক্ষিণ গাজার নাসর মেডিকেল কমপ্লেক্সে একইভাবে আরও ৫ জন সাংবাদিককে টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা ছিলেন ওই অঞ্চলের জনপ্রিয় সাংবাদিক, যাদের প্রতিবেদনে গাজার মানবিক বিপর্যয় ও ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত হচ্ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড সরাসরি পরিকল্পিত টার্গেটেড অ্যাসাসিনেশন। উদ্দেশ্য একটাই—গাজাবাসীর কণ্ঠস্বর যারা, যারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছেন ইসরায়েলের ভয়াবহ নৃশংসতা, তাদের স্থায়ীভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া।
তবে এত বড় অপরাধের পরও ইসরায়েলি বাহিনী কোনো আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতার মুখোমুখি হচ্ছে না। পশ্চিমা শক্তিগুলো মানবাধিকারের কথা বললেও, তাদের সংজ্ঞা অনুযায়ী পশ্চিমারা যা করে, তাই জায়েজ। গাজার শিশু, নারী, সাংবাদিক বা হাসপাতালের উপর বোমা হামলাও যেন সেই ‘জায়েজ’-এর অংশ।
সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, যে জাতিসংঘ গাজায় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে অক্ষম, সেই জাতিসংঘই বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার নামে হস্তক্ষেপ করতে আসে কিভাবে?

গাজার রক্তক্ষয়ী বাস্তবতায়, সাংবাদিক হত্যার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হলো—যুদ্ধক্ষেত্রে সত্য ও মানবতার কণ্ঠস্বরই সবচেয়ে বড় হুমকি ইসরায়েলি আগ্রাসনের কাছে।














