
বরিশালের মুলাদীতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে দুই ভাই মিলে আরেক ভাইয়ের চোখ তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের সাহেবেরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রিপন বেপারী (৫০) বর্তমানে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিপন বেপারীর বিরুদ্ধে ঢাকার রমনা থানায় চুরি ও ছিনতাইয়ের অন্তত আটটি মামলা এবং মুলাদী থানায় হত্যা মামলাসহ প্রায় ২০টি মামলা রয়েছে। চুরি-ছিনতাই করে জমানো প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণালংকার তিনি তার মেজো ভাই রোকন বেপারীর কাছে গচ্ছিত রেখেছিলেন। ওই অর্থ ও স্বর্ণ ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করেই ভাইদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
গ্রামবাসীর বরাতে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে রিপন টাকা ও স্বর্ণ ফেরত চাইলে রোকন ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়। শুক্রবার বিকেলে রিপন ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে আবারও রোকনের কাছে টাকা চান। তখন ফেরত না দেওয়ায় তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরে রাতে বাড়ি ফেরার পর পুনরায় ঝগড়ার এক পর্যায়ে বাবা আরশেদ আলী বেপারী ক্ষিপ্ত হয়ে রিপনকে মারধর করে চোখ তুলে ফেলার কথা বলেন। বাবার এমন কথার পরপরই রোকন ও ছোট ভাই স্বপন মিলে রিপনকে বেধড়ক মারধর করে এবং নির্মমভাবে তার দুই চোখ উপড়ে ফেলে।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাহেবেরচর গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, রিপন দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করতেন এবং চুরি-ছিনতাইয়ের মাধ্যমে সম্পদ হাতিয়ে নিয়ে আসতেন। সেসব সম্পদ তিনি ভাই রোকনের কাছে রাখতেন। এ সম্পদ ফেরত চাইতেই এ ভয়াবহ ঘটনার সূত্রপাত।
এ বিষয়ে মুলাদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ জানান, প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক বিরোধের জেরে দুই ভাই মিলে রিপনের চোখ উৎপাটনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
ফলে গ্রামে নেমে এসেছে আতঙ্ক ও ক্ষোভের ছায়া।

















