ক্যারিবিয়ানে যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা উত্তেজনা: যুদ্ধের শঙ্কা ঘনাচ্ছে

নিজেস্ব প্রতিবেদক

ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ওয়াশিংটন দাবি করছে, তারা মাদক কার্টেলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে যাচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছাকাছি ৩টি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, একটি Amphibious Squadron ইউনিট, একটি সাবমেরিন, পি-৮ নজরদারি বিমান এবং প্রায় ৪,০০০ সেনা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ২,২০০ জন মেরিন সৈন্য সরাসরি অপারেশনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো নিজেই আন্তর্জাতিক কোকেন পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত। তাকে গ্রেফতারের জন্য ঘোষিত পুরস্কারের অর্থ দ্বিগুণ করে ৫০ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।

অন্যদিকে, পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মাদুরো সরকারও ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি নিয়েছে। কলম্বিয়া সীমান্তে ১৫,০০০ সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান ও ড্রোন সক্রিয় করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেছেন, দেশের ৪৫ লাখ মিলিশিয়া বাহিনীকে সর্বদা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব মিলিশিয়াদের হাতে রাইফেল ও ক্ষেপণাস্ত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে, বিশেষ করে গ্রামীণ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলোকে।

কারাকাস সরকার আরও জানায়, তাদের আঞ্চলিক জলসীমায় যুদ্ধজাহাজ ও ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে মার্কিন নৌবাহিনীর যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া যায়। এমনকি ইরান থেকে আনা অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মহড়াও চালাচ্ছে ভেনেজুয়েলা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই টানাপোড়েন শুধু ক্যারিবিয়ান নয়, পুরো লাতিন আমেরিকার ভূরাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের অজুহাত এবং ভেনেজুয়েলার পাল্টা প্রতিরোধ— উভয় পক্ষের অবস্থানই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ ঘটতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ