
ইসরাইলি বাহিনী গাজা শহরের আল-নাসর এলাকায় একটি বেকারিতে বিমান হামলা চালিয়ে একটি ভয়াবহ নৃশংসতা সংঘটিত করেছে। স্থানীয় ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই হামলায় কমপক্ষে ১১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুও রয়েছে। হামলার পর বেকারির রুটি এবং খাদ্যসামগ্রী শাহিদদের রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায় ।
স্থানীয় সাংবাদিকরা এই দৃশ্যকে “রক্তাক্ত নৃশংসতা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে এখন পর্যন্ত ১১ জন শাহিদের দেহ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে, যাদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে ।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী গাজা উপত্যকায় তাদের অভিযান তীব্রতর করার অংশ হিসেবে এই হামলা চালায়। গাজা শহরকে ইসরাইল “যুদ্ধাঞ্চল” ঘোষণা করার পর থেকে সেখানে হামলা বেড়ে গেছে । এই হামলার সময় বেকারিতে উপস্থিত নিরীহ ফিলিস্তিনিরা রুটি সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরাইলি বিমান হামলার শিকার হন ।
এপ্রসঙ্গে, আল জাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ গাজা শহর থেকে জানান, “এই হামলা সম্প্রতি ইসরাইল যে অভিযান ঘোষণা করেছে, তারই অংশ। সামরিক বাহিনী ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমান হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে, যা মানুষকে আরও বাস্তুচ্যুত করছে” ।
গাজায় ইসরাইলি হামলা এবং অবরোধের কারণে ইতিমধ্যেই মানবিক সংকট চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় শিশুরা বিশেষভাবে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে, যেখানে প্রতিদিন গড়ে ২৮টি শিশু নিহত হচ্ছে । ইতিমধ্যে ১৭,০০০-এরও বেশি শিশু প্রাণ হারিয়েছে এই যুদ্ধে ।
গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসার অভাব তীব্র হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে গাজার পরিস্থিতি “অবর্ণনীয় পর্যায়ের দুর্ভিক্ষ ” এ পৌঁছেছে । গাজার ৯৫% জনগণ এখন পানি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে ।
ইসরাইলের এই কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশ। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ইতিমধ্যে গাজা শহরে ইসরাইলি অভিযান কে “যুদ্ধের সূচনা এবং বিপজ্জনক পর্যায়” হিসেবে বর্ণনা করেছেন ।
গুতেরেস সতর্ক করেছেন যে “বিস্তৃত military operations in Gaza City will have devastating consequences. Hundreds of thousands of civilians, already exhausted and traumatised, would be forced to flee yet again, pushing families into even deeper peril” ।
ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে চলেছে। এক গাজাবাসী বলেছেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই গণহত্যা এবং দুর্ভিক্ষ দেখছে এবং কিছুই করছে না। আমরা মানুষ। আমাদের শিশুরা ক্যামেরার সামনে ক্ষুধায় মারা যাচ্ছে। আপনার নীরবতা আমাদের হত্যা করছে। আমাদের কথার নয়, সাহায্যের প্রয়োজন” ।
এই নৃশংসতা গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর ক্রমাগত সহিংসতার উদাহরণ। স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুদ্ধবিরতি এবং একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের দাবি হচ্ছে, কিন্তু ইসরাইলি সরকার এখনও তাদের military operations intensify করতে থাকছে ।
গাজায় চলমান সংঘাতের ফলে ইতিমধ্যে ৬৩,৩৭১-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, এবং আরও ১৫৯,৮৩৫ মানুষ আহত হয়েছেন । জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে গাজায় এই পরিস্থিতি “মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ” এর দিকে এগিয়ে চলেছে।














