
২০২৫ সালের আগস্ট মাসে গাজা সংঘাত ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছালেও বিশ্লেষকদের মতে, নিকট ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা নেই। এর পেছনে কৌশলগত, রাজনৈতিক ও জোটগত কারণ কাজ করছে।
তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য হওয়ায় কোনো পক্ষই সরাসরি আক্রমণের ঝুঁকি নিতে চাইছে না। ইসরাইল তুরস্কের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নিলে তা ন্যাটোর সাথে সংঘাতের তৈরি করবে, যা ইসরাইলের জন্য বিপজ্জনক। একইভাবে, তুরস্কও ন্যাটোর সদস্য হিসেবে ইসরাইলের উপর সরাসরি হামলা করলে পশ্চিমা মিত্রদের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে।
সরাসরি যুদ্ধ না হলেও দুই দেশ পরোক্ষভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরাইল তুরস্কের বিরুদ্ধে লড়াই করা কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী (যেমন পিকেকে)কে ইরাক, সিরিয়া ও ইউরোপে সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে, তুরস্ক হামাস এবং সিরিয়ার বর্তমান সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে, যা ইসরাইলের জন্য হুমকিস্বরূপ।
তুরস্কের সাম্প্রতিক ইসরাইল-বিরোধী সিদ্ধান্তগুলো গাজা ইস্যুর চেয়ে সিরিয়াকে কেন্দ্র করেই বেশি। ইসরাইল সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে নিজের প্রভাববলয় বিস্তার ও দামেস্ক সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, যা তুরস্কের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। তুরস্ক চায় সিরিয়ায় নিজের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করতে, আর ইসরাইল তা বাধা দিচ্ছে।
আফ্রিকায় তুরস্কের বর্ধিত সামরিক ও অর্থনৈতিক উপস্থিতি ইসরাইলের স্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক। তুরস্কের কার্যক্রম সেখানে ইসরাইলের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করছে।
তুরস্কের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলি ইসরাইলকে আলোচনার টেবিলে আনার একটি কৌশল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির মধ্যস্থতার মাধ্যমে সিরিয়ায় ইসরাইলের কার্যকলাপ সীমিত করার চেষ্টা করছে তুরস্ক। ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নির্ভর করবে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সাফল্য ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্যের উপর।














